মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক নির্ঘণ্ট ঘোষণা-পরীক্ষার্থীদের জল্পনার ইতি
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিকের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার নির্ঘণ্ট জানালেন তিনি। জল্পনার অবসান হল বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যে করোনা আবহে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। শিক্ষা দফতরের দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ঘোষণা করেছিলেন , এই বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন মুখ্যমন্ত্রী।
এরপর নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা ,”জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে হবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে অগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে। আর দুটি ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র অত্যাবশ্যকীয় বিষয়ের উপর পরীক্ষা নেওয়া হবে। যেহেতু উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের নানা স্তরে ভর্তির বিষয় থাকে, তাই আগে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ করা যায়,গত সপ্তাহে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার বিষয় নিয়ে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু । ওই বৈঠকে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতিদের জানিয়েছিলেন, আগামী সপ্তাহের শেষের দিকে রাজ্য সরকার এই সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে। সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, ” সংক্রমণ কমলেই পরীক্ষা নেওয়া হবে।”
আজ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোভিড বিধি মেনেই পরীক্ষা নিতে হবে। মাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া হবে নিজের নিজের স্কুলেই। সেখানেও সম্পূর্ণরূপে কোভিড প্রোটোকল মেনে চলতে হবে। আর দুটি ক্ষেত্রেই পরীক্ষার সময়সীমা তিন ঘণ্টা থেকে কমিয়ে দেড় ঘণ্টা করে দেওয়া হচ্ছে ।
তিনি আরও বলেছেন, “গোটা দেশের মধ্যে আমরাই প্রথম যারা পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিলাম। ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই আমাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।”
মুখ্যমন্ত্রী পরীক্ষা বিষয়ক আরও বলেছেন,”মাধ্যমিকে ১২ লক্ষের বেশি পরীক্ষার্থী। আবশ্যিক বিষয়টি ৭টি। এখন শুধু সেই বিষয়গুলির উপরেই পরীক্ষা হবে। অতিরিক্ত বিষয় ৩৮ থেকে ৫৮টি। বিদ্যালয়ের নম্বরের ভিত্তিতেই সেগুলির মূল্যায়ন হবে। ৩ ঘণ্টার পরিবর্তে দেড় ঘণ্টার পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রশ্নপত্র তৈরি হয়ে গিয়েছে। ১০টার পরিবর্তে ৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে পরীক্ষার্থীদের।”
অন্যদিকে উচ্চ মাধ্যমিক বিষয়ে তাঁর মন্তব্য, ”উচ্চমাধ্যমিকে সাড়ে ৮ লক্ষের বেশি পরীক্ষার্থী। এক্ষেত্রেও আবশ্যিক বিষয়গুলির পরীক্ষা নেওয়া হবে।” এই ঘোষণার পর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কাটল বলে মনে করছেন অনেকেই। পড়ুয়াদের অভিভাবকরাও চিন্তা মুক্ত হলেন এই খবরে।

